IELTS কি এবং কেন প্রয়োজন

আইইএলটিস (IELTS) এখন বাংলাদেশে অত্যন্ত সুপরিচিত একটি নাম। ঠিক বিসিএস যেমন হাজারো তরুণের স্বপ্ন তেমনি IELTS পরীক্ষা দিয়ে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ বা আমেরিকায় পারি জমানো লাখো মানুষের স্বপ্ন। IELTS এর পূর্ণ নাম International English Language Testing System যা ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্যে পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক মানের একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা। মূলত যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি না তাদেরকে ইংরেজি ভাষাভাষী দেশে শিক্ষা কিংবা কাজের জন্য যেতে হলে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য এই পরীক্ষা দিতে হয়।

IELTS এর সূচনা হয় ১৯৮৯ সালে এবং তখন থেকে পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করে। যৌথভাবে British Council, IDP: IELTS Australia এবং Cambridge English Language Assessment এর মালিকানাধীন একটি পরীক্ষা পদ্ধতি। সারা বিশ্বের প্রায়  ১৪০ টিরও বেশি দেশে ১১ হাজারেও অধিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি অর্গানাইজেশনের দ্বারা স্বীকৃত। এগুলোর মধ্যে  শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৩,০০০ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ১.৫ বিলিয়নের অধিক মানুষ ইংরেজিতে কথা বলেন। এটি সারা বিশ্বের ৬৭টি দেশ এবং ২৭টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অফিসিয়াল ভাষা। এছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন জাতিসংঘ, NATO, European Union সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন, কোম্পানির অফিসিয়াল ভাষাও ইংরেজি। ইংরেজি বর্তমানে এত শক্তিশালী একটি ভাষা যা অনেক দেশের মাতৃভাষার থেকেও বেশি ব্যবহৃত হয়। শুধুমাত্র যোগাযোগের জন্য নয় বরং শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরী এমনকি বিনোদনের জন্যও ইংরেজি জানা অত্যাবশ্যকীয়।

ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ এবং এর স্বীকৃতির জন্য IELTS পরীক্ষা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকরী। একটি ভালো IELTS স্কোর আপনাকে বেশ কিছু সুযোগ এনে দিতে পারে। যেমন;

১। ইংরেজি ভাষায় নিজেকে দক্ষ করার জন্য।

২। বিদেশে কোনো চাকরি পেলে, সেখানে বসবাসের জন্য।

৩। উচ্চশিক্ষা (অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডি) গ্রহণের জন্য ।

৪। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য।

৫। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব পাওয়ার জন্য।

৬। ইংলিশ ইন্ডাস্ট্রি ক্যারিয়ার  গড়ার জন্য।

৭। এছাড়াও ইমিগ্রেশন, জব, ট্রেনিং, ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চাইলে IELTS সার্টিফিকেট প্রয়োজন।

২০১৮ সালে British Council-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী সারা পৃথিবী থেকে প্রতি বছর ৩৫ লক্ষ মানুষ IELTS পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে। করোনা পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা বেড়েছে অনেক বেশি। ডেইলিস্টারের ২০১৩ সালের এক রিপোর্টে পাওয়া যায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজারেও অধিক পরীক্ষার্থী IELTS পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ২০২১ সালে এই সংখ্যাটা বেড়ে দাড়ায় প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি এবং ২০২২ সালে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ IELTS পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন।

একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে ২০২১ সালে  ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য সারা বিশ্বজুড়ে যত ধরনের টেস্ট আছে তাদের সম্মিলিত মার্কেট ভেলু প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার। ধারনা করা হচ্ছে ২০৩০ সালে তা ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মার্কেট শেয়ার হলো IELTS-এর। এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সারা বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠেছে হাজার হাজার কোচিং সেন্টার, লিখা হয়েছে শত শত বই এবং তৈরি করা হয়েছে অনেক ধরনের কোর্স। ইন্টারনেট জুড়ে রয়েছে শত শত ফ্রি এবং পেইড রিসোর্স। আমাদের দেশে ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে অনেকেই পড়ান।

IELTS-এ  মূলত তিন রকমের টেস্ট হয়ে থাকে। ১। IELTS Academic ২। IELTS General Training ৩। UKVI and IELTS Life Skills.

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে  IELTS Academic টেস্টের স্কোরের প্রয়োজন হয়। মূলত একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষায় একাডেমিক পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবেন কি না তা বুঝার জন্যই IELTS Academic টেস্টের স্কোর চাওয়া হয়।

IELTS General Training টি মূলত যারা Australia, Canada, New Zealand, UK তে অধিবাসী বা কাজের জন্য যেতে চান  তাদের জন্য। এই সব দেশে কাজ করা এবং বসবাসের জন্য ভিসার আবেদন করলে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইর জন্য IELTS General Training এর স্কোর প্রয়োজন হয়।

UKVI এর পূর্ণ নাম হচ্ছে United Kingdom Visa and Immigration। UKVI  IELTS পরীক্ষাগুলো বিশেষত UK home office দ্বারা নির্ধারিত প্রশাসনিক শর্ত এবং মানদণ্ড পূরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং UKVI দ্বারা অনুমোদিত একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে দিতে হয়।

UKVI  IELTS মূলত যারা UK-তে নির্দিষ্ট কিছু ভিসার জন্য আবেদন করে তাদের ইংরেজির  speaking এবং listening-এর  দক্ষতা যাচাই করার জন্য। যেমন;

১। কেউ যদি UK-তে  স্থায়ীভাবে বসবাসকারী কোনও আত্মীয়, স্ত্রী/স্বামী সাথে থাকতে চান।

২। কেউ যদি ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন এবং এখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে চান।

৩। কেউ যদি ব্রিটিশ নাগরিক হতে চায়।

IELTS পরীক্ষা ইংরেজি ভাষার চারটি মডিউল যেমন; Reading, Listening, Speaking এবং Writing এর উপর বিশেষ ভাবে ডিজাইন করে প্রশ্নের উপর হয়ে থাকে। এছাড়াও এমন আরও অনেক ধরনের টেস্ট রয়েছে। যেমন; TOEFL, PTE, Duolingo English Test, OET, TOEIC ইত্যাদি। তবে এর মধ্যে স্বচ্ছতা, মান এবং গ্রহণযোগ্যতায় IELTS সবচেয়ে সেরা।

IELTS ANTIBIOTIC [Pre IELTS Preperation Course] বই থেকে নেওয়া।

মোঃফজলেরাব্বি আফসার

লেখক ও ইন্সট্রাকটর

Related Articles

লেখালিখির উপকারিতা

লেখালিখির উপকারিতা জীবনে সফলতা এবং উন্নতির জন্য আমরা অনেক কিছুই করার চেষ্টা করি। এক বার ভেবে দেখেছেন এর মৌলিক প্রচেষ্টা আসলে কি? নিশ্চয়ই পড়া এবং…

Responses

Your email address will not be published. Required fields are marked *